kobita tok jhal misti samsuzzaman lablu

কবিতাঃ পেটুক বাবু
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

এটুক সেটুক যেটুক পেলেন
পেটুক বাবু সবই খেলেন
কেও পেলনা ভাগ
পেটুক বাবু মন্ত্র পড়েন
লাগ ভিলকি লাগ
দেশ জুড়ে আজ ফুঁসর ফুঁসর
চলছে কাঁনাকাঁনি
কেও বলছে এমন হবে
অনেক আগেই জানি
সবার মনেই কষ্ট শুধু
সবার মনেই রাগ
পেটুক বাবু রেগে বলেন
ভাগ শালারা ভাগ ।

কবিতাঃ ঝিনাইদহে কি আছে?
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

ঝিনাইদহে কি আছে
খাঁটি দুধের ঘি আছে
বিল বাউড়ে কৈ আছে
বাগাট ঘোষের দৈ আছে
নবগঙ্গা নদী আছে
অনেক নেতার গদি আছে
কে.পি বসুর বাড়ী আছে
তালের রসের তাড়ি আছে
সকাল বিকাল বাজার আছে
পাগলা কানাই’র মাঝার আছে
মোড়ের উপর মিটিং আছে
অনেক রকম চিটিং আছে
অনেক বড় কোর্ট আছে
চোর পুলিশের জোট আছে
ধনী গরীব নিঃস্ব আছে
হক সাহেবের শিষ্য আছে
সব দলেরই নেতা আছে
ভোট ক্রয়ের ক্রেতা আছে
বন বিভাগের বন আছে
রূপসীদের মন আছে
অদল বদল পালা আছে
বউ হারানোর জ্বালা আছে
পকেট ভরা টাকা আছে
পকেট মারও পাকা আছে
মিয়া খোনকার কাজী আছে
অনেক রকম হাজী আছে
ভালবাসা আদর আছে
রাস্তা ঘাটে বাদর আছে
পৌরসভার পার্ক আছে
ছাত্র-ছাত্রীর মার্ক আছে
শিল্পী আছে কবি আছে
আজিজ ভায়ের ছবি আছে
কিংবদন্তীর কিচ্ছা আছে
ভাল কাজের ইচ্ছা আছে
অনেক রকম ভোট আছে
নেতার গলায় চোট আছে
অনেক রকম হুজুর আছে
কাজ কর্মের মুজুর আছে
নদীর উপর ব্রীজ আছে
শার্ট প্যান্টের ক্রিচ আছে
কেশবচন্দ্র কলেজ আছে
অনেক লোকের নলেজ আছে
হাইওয়ে রোড পাতা আছে
অনেক অনেক মাথা আছে
ডাকাত খুনীর ভীতিও আছে
ভালবাসা প্রীতিও আছে
সাংবাদিকের দল আছে
কলম ধরার বল আছে
নানা রকম খেলা আছে
হর হামেশায় মেলা আছে
নিয়ন বাতির আলো আছে
মন্দ এবং ভালো আছে
অনেক রাতের খেলা আছে
সব নেতারই চেলা আছে
সব হারানোর কষ্ট আছে
অনেক কিছুই নষ্ট আছে ৷

কবিতাঃ লোকটার নাম কি?
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

কানাকানি করে সব
লোকটার নাম কি-
কেউ কেউ বলে ভাই
লোকটার কাম কি ?
হেসে কেউ আটখানা
ভাবখানা দেখে তার
কেউ কেউ তাকিয়ে
দেখে শুধু বার বার।
এক পায়ে জুতো তার
এক পায়ে স্যান্ডেল
নেই কোন রিকসা
হাতে শুধু হ্যান্ডেল।
দিনভর যেতে যেতে
এক মনে গান গায়
মাঝে মাঝে দেখা যায়
গাল ভরে পান খায়–
হা করে তাকিয়ে
আকাশটা দেখে নেয়
তারপর ফিক করে
নিজ মনে হেসে দেয়
চোখে আছে চশমা
নেই কোন কাঁচ তার
গলায় প্যাচানো আছে
গুণে গুণে পাঁচ তার
ঘড়ি আছে হাতে তার
কাঁটা গুলো ঘোরে না
কথা বলে ধীরে ধীরে
খুব বেশী জোরে না
গায়ে জামা সাত রঙা
প্যান্টাও তেমনি
তার মত নেই কেও
ভাবখানা এমনি।

কবিতাঃ দাঁতের বাগান
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

মোদের গাঁয়ের কলিমদ্দী
লোকটা ছিল দাঁতো
হাড়-হা-ভাতে ছন্ন ছাড়া
যা পাতো তাই খা’তো ।
দাঁত মেলিয়ে হাসতো যখন
আকাশ ছুঁতো দাঁত
লম্বা ছিল এক একটা
বিশ পঞ্চাশ হাত ।
দাঁত শুধু নয় দাঁতের বাগান
বাতাস পেয়ে দুলতো
দাঁতে দাঁতে বাড়ি লেগে
কতই যে সুর তুলতো ।
দেশ বিদেশের লোকগুলি সব
দাঁত দেখতে আসতো
কলিমদ্দী বসে শুধু
আপন মনে হাসতো ।

কবিতাঃ তোদের হাতেই দিলাম
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

খোকন লাল সবুজের এই পতাকা
শক্ত করে ধর
আজও আছে বাংলাদেশে
পাকিস্তানের চর।
আজও তারা এদিক সেদিক
নানান কথা বলে
সুযোগ পেলেই করবে ক্ষতি
ছলে বলে কলে ।
খোকন! তোদের হাতেই দিলাম
এই পতাকার ভার
ত্রিরিশ লক্ষ প্রাণ বিলিয়ে
এনে ছিলাম যার।
জান দিলে জান দিবি
মান দিবিনে কভু
খোকন গেছে সত্য ন্যায়ের পথে
জানবে সবাই তবু।

কবিতাঃ জন্মেছি এই দেশে
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

মাঠে মাঠে ফসলের হাসি
পাখিদের গান
বাতাসে ফুলের সুবাস
নদীর কলতান
বটের ছায়ায় রাখাল
বাজায় বাঁশী
দুপুরে ঘুঘুর ডাকে
মন উদাসী
আঁকা বাঁকা মেঠো পথ
হারায় সুদূরে-
প্রজাপতি ফুলে ফুলে
বেড়ায় ঘুরে—
প্রতিদিন রং ছড়ায়
বৈকালী মেঘ
পাখির প্রণয় ছবি
ছড়ায় আবেগ
যে দিকেই চোখ যায়
ছবি আর ছবি-
এখানে জন্মেই তাই
মানুষ শিল্পী কবি
আমারও গর্বে তাই
ভরে ওঠে বুক
জন্মেছি এই দেশে
এই বড় সুখ
জন্মেছি এই দেশে
আর কিবা চাই
চাওয়ার মত কিছু
বাকী আর নেই।

কবিতাঃ লোকটা নাকি
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

লোকটা নাকি অনেক বেঁচেন
মাঝে মাঝে অল্পও বেঁচেন
শুনতে পেলাম সুযোগ পেলে
লোকটা নাকি গল্পও বেঁচেন।
হাটে মাঠে ঝোড়ে মোড়ে যাচ্ছি যেথায়
এসব নিয়েই গল্প এখন
হাসাহাসি কানাকানি চলছে শুধু
বলছে সবাই এটা কেমন।
লোকটা নাকি কাঁন্না বেঁচেন
সময় সময় হাসিও বেঁচেন
দামে মিললে সুযোগ মত
নানান রকম কাঁসিও বেঁচেন।
এসব নিয়েই বেঁচে কিনে
লোকটার নাকি অনেক টাকা
এখন তিনি ব্যাস্ত মানুষ
হরহামেসায় থাকেন ঢাকা৷

কবিতাঃ লোকটা
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

লোকটার মাথা টাক
দাঁতগুলি সব ফাঁক
চারিদিকে তাকিয়ে খুশিতে বাঁক বাঁক
হা করে তাকিয়ে
ঘাড়খানা বাঁকিয়ে
গুণে গুণে মারে ঠিক সাতপাক।
লোকটার নেই নাম
নেই কোন কাজ কাম
বুকে শুধু লেখা আছে
একশত টাকা দাম
মাঝে মাঝে দেখা যায়
চানাচুর ভাজা খায়
যেতে যেতে বলে
ওঠে রাম! রাম!
লোকটার বাড়ি নেই
ভালো কোন গাড়ি নেই
একদিন হবে সব
শান্তনা বড় এই
কি যে ভালো লোকটা
আরো ভালো চোখটা
টাক মাথা টাকা দেবে ভেবে
মরে খুশিতেই।

কবিতাঃ ভোর হলো দোর খোল
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

আজও ফোঁটে গাছে গাছে
নানা রং ফুল
কাক ভোরে ডাক দেয়
কাজী নজরুল।
“ভোর হলো দোর খোল
খুকু মনি ওঠরে
ঐ ডাকে জুঁই শাখে
ফুল খুকী ছোটরে”।
খোকা খুকু জাগলো না
হোল না সকাল
চারিদিকে অমানিশা
চলছে অকাল
নিপিড়িত শোষিত
বঞ্চিতরা কাঁদে
আজও তারা বাঁধা আছে
শোষকের ফাঁদে
কবে আর হবে ভোর
আশায় আশায়
চেয়ে থাকে অভাগারা
দিন কেটে যায় ৷

কবিতাঃ সেই লোকটা
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

সেই লোকটা সেই লোকটা
সেই লোকটা কই
সব খানেতেই চলছে এখন
এই নিয়ে হৈ চৈ ।
লোকটার হাতে ছিল নাকি
কি একটা বই
কি লিখেছে বইয়ের পাতায়
লোকটা গেল কই?
বলছে সবাই একই কথা
খোজনা ভাল করে
দেখা পেলে ছাড়বি না তার
আনতে হবে ধরে ।
একটু পরে অনেক দুরে
উঠলো যে মোর গোল
লোকটা নাকি বসে বসে
বাজাচ্ছে এক ঢোল
ঢোলের তালে নাচ্ছে সবাই
কারোরই নেই হুঁস
কেও বলছে আরও জোরে
কেও বলছে ফুঁস ।

কবিতাঃ খোকা খুকু
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

পাখি ডাকে তরু শাখে
খোকা খুকু ওঠরে
শিউলী তলায় ফুল ঝরেছে
ফুল কুড়াতে ছোটরে ।
মুখ ধুয়ে বই নিয়ে
বসে পড় সকলে
অজানাকে জেনে নাও
নাও সব দখলে ।
সব কিছু জানা হলে
নিজেকেও জানবে ।
দেশ জাতি সকলেই
তোমাদের মানবে
দিন এলো নতুনের
ঝলমলে আলোতে
ভরে দাও পৃথিবীকে
ভালো আর ভালোতে ।

কবিতাঃ টাক
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

পদ্মা নদীর উজান চরে
ঢলেশ্বরীর বাঁক
সেথায় থাকে ছলিম বুড়ো
মাথায় বেজায় টাক
সেই টাকেতে তেল মাখাতে
হাজার লোকের একটা দিন
তেল মাখিয়ে ছেড়ে দিলে
নাচেন বুড়ো তা-ধিন-ধিন।
হাজার রেরেল তেলের খরচ
স্বাস্থ্য বিভাগ পাঠায় তার
সরকারী তেল মাখেন তিনি
কিইবা এমন ভাবনা আর
খাটি শস্যের তেল না হলে
ধরে বুড়োর সর্দিতে
তখন তো আর হয় না কিছু
দেশ বিদেশের বদ্দিতে
স্বাস্থ্য বিভাগ তাইতো ভয়ে
কাঁপেন সদা থরো থর
কখন বুঝি হঠাৎ করে
হবেই বুড়োর সর্দি জ্বর
টাক বাঁচাতে খাঁটি তেলের
দাম বেড়েছে তাই তো আজ
ড়োর ভয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ
রছে এমন ভীষণ কাজ।

কবিতাঃ সাহেব গায়েব
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

সাহেব গায়েব ভোটের পরেই
আর ছড়ায় না টাকা
হেতায় খুঁজি হোতায় খুঁজি
মাঠ ময়দান ফাঁকা।
দ্বীনদরদি নেতা মেনে
ঘুরতো যারা পিঁছে পিঁছে
তাদের মাথায় হাত উঠেছে
ঝিমায় গাছের নীচে।
কেওবা ভাবে কেমন কথা
এমন কেন হলো
এমন সাহেব কেমন করে
ভুলতে পারে বলো!
সাহেব গায়েব সত্যি করেই
সাহেব কোথাও নাই
সাহেব এখন এম.পি সাহেব
ঢাকায় থাকেন ভাই।
খেয়ে দেয়ে গান ধরেছে
তাইরে নাইরে নাই-
এটুক সেটুক যেটুক পেলাম
আমি পেটুক খাই।

কবিতাঃ কুড়ি হাত ভুড়ি
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

ছোট খাট লোকটা
ভূড়ি তার কুড়ি হাত
কাজ নেই কাম নেই
খাই বসে দিন রাত।
ভূড়িতে তুড়ি মেরে
বলে শোন লোক জন
চাল ডাল যেথা পাও
আনো সব মণ মণ।
যত লাগে চাল ডাল
জল তার দশ গুণ
পানতায় খান তিনি
দশ মন কাঁচা নুন
শীতকালে সকালে
রোদে মেলে ভূড়িটা
দশ সের তেল মেখে
ঘুষি দেয়, কুড়িটা
তারপর চাপিয়ে
লেপ কাঁথা কম্বল
বলে ওঠে দুনিয়ায়
ভুড়িটায় সম্বল।

কবিতাঃ শৈলকুপাতে জন্ম আমার
কবিঃ সামসুজ্জামান লাবলু

শৈলকূপাতে জন্ম আমার
ঝিনাইদহে বাস
সামসুজ্জামান লাবলু আমি
কাটি ঘোড়ার ঘাস।
গদ্য লেখি পদ্য লেখি
লেখা লেখিই কাজ
লোকে বলে এসব লেখে
বাঁচে কি কেও আজ।
এযুগে আর পড়বে কারা
সবাই বড় ব্যাস্ত
ছুটছে সবাই দিন রাত্রি
নানান কাজে ন্যাস্ত।
চুল পাকালে টাক পড়ালে
পাঠক পেলে কই?
লোকের কথা দুঃখ ব্যথা
আপন মনেই সই
কিছু না পাই তবুতো ভাই
দিন যাচ্ছে কেটে
বাকীটা দিন এমনি কাটুক
এ পথেতেই হেটে।

মূল্য: ২০/=
কম্পিউটারঃ মা কম্পিউটার এন্ড গ্রাফিক্স সেন্টার, এইচ.এস.এস রোড, ঝিনাইদহ।
মোবাঃ ০১৭১৮-৯৮৬২০৪,
মুদ্রণে: হাজী গণী প্রিন্টিং প্রেস, কালীগঞ্জ, বিনাইদহ।
স্বত্ত্বঃ কবি কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।
প্রকাশনায়: প্রজাবাহিনী প্রকাশনী-ঢাকা।
প্রকাশকাল: মে, ২০১৩ইং, (বৈশাখ-১৪২০ বাং)।