বাংলাদেশে থাইরয়েডের চিকিৎসা দীর্ঘদিন থেকে হয়ে আসছে। বিগত ৩০ বছর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের থাইরয়েড ক্লিনিকের মাধ্যমে এ দেশের হাজার হাজার মানুষ থাইরয়েডের সুচিকিৎসা পেয়ে আসছেন। এটি দেশের একমাত্র সমন্বিত থাইরয়েড ক্লিনিক।

২৫ মে, ২০২৪ বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উদযাপিত হচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে সারা বিশ্বে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। ২০১৩ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ থাইরয়েড সচেতনতামূলক কর্মসূচি হিসাবে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দিবসটি পালন করে আসছে। আশার কথা বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠন এই কর্মসূচি পালন করছে। এই ব্যাপারে ACEDB (Association of Clinical Endocrinologist & Diabetologist of Bangladesh) এর কর্মসূচি লক্ষণীয়। এর দ্বারা সাধারণ জনগণ উপকৃত হচ্ছে।

থাইরয়েড গ্রন্থিটি গলার সামনের দিকের উঁচু হাড় (Adam’s apple) এর নিচে অবস্থিত। গ্রন্থিটি দেখতে প্রজাপতি সদৃশ এবং এটি ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালীকে পেচিয়ে (Wrap) থাকে। যদিও এটি একটি ছোট গ্রন্থি, কিন্তু এর কার্যকারীতা ব্যাপক। থাইরয়েড গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোন মানব পরিপাক প্রক্রিয়ায় অন্যতম ভূমিকা পালন করে। ভ্রুণ অবস্থা থেকে আমৃত্যু থাইরয়েড হরমোনের প্রয়োজন অপরিহার্য। এ হরমোনের তারতম্যের জন্য শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, শরীর মোটা হওয়া, ক্ষয় হওয়া, মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, হার্টের সমস্যা এবং চোখ ভয়ঙ্করভাবে বড় হয়ে যেতে পারে। বন্ধ্যাত্বের অন্যতম কারণ হিসেবে থাইরয়েড হরমোনের তারতম্যকে দায়ী করা হয়। শারীরিক কার্যক্ষমতা সঠিক রাখার জন্য নির্দিষ্ট মাত্রায় এ হরমোন শরীরে থাকা একান্ত জরুরী।

সুস্থ নবজাতকের জন্য সুস্থ মা একান্ত প্রয়োজন। মায়ের থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা থাকলে এর প্রভাব নবজাতকের উপর পড়ে নবজাতকের থাইরয়েড হরমোনের অভাব শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটায়। যার ফলশ্রুতিতে শিশু প্রতিবন্ধিতে পরিণত হতে পারে। শিশুকে এ প্রতিবন্ধিতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিটি নবজাতকের জন্মের সাথে সাথে থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করা একান্ত জরুরী।

Bissho Thyroid Dibos ki? Amader koroniyo ki?

হরমোন নরমাল থেকেও থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যেতে পারে। সাধারণত আয়োডিনের অভাবে গলাফুলা রোগ হয়ে থাকে, যাকে আমাদের সাধারণ ভাষায় ঘ্যাগ রোগ বলা হয়। বাংলাদেশে যদিও আয়োডিনযুক্ত লবন খাওয়া হচ্ছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের বেশির ভাগ স্কুলগামী শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের আয়োডিনের অভাব রয়ে গেছে। এ আয়োডিন শরীরে অতি প্রয়োজনীয় থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

থাইরয়েড হরমোনের রোগ চেনা জটিল কিছু নয়, হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এর সুচিকৎসা হয়।

বাংলাদেশে থাইরয়েডের চিকিৎসা দীর্ঘদিন থেকে হয়ে আসছে। বিগত ৩০ বছর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের থাইরয়েড ক্লিনিকের মাধ্যমে এ দেশের হাজার হাজার মানুষ থাইরয়েডের সুচিকিৎসা পেয়ে আসছেন। এটি দেশের একমাত্র সমম্বিত থাইরয়েড ক্লিনিক। যা নিউক্লিয়ার মেডিসিন এবং সার্জারী বিভাগের মাধ্যমে অত্যন্ত সুনামের সাথে মানুষকে সেবা দিয়ে আসছে। থাইরয়েড হরমোনের সব ধরনের চিকিৎসা এ দেশে হয়। এর জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমরা দীর্ঘদিন থেকে রেডিও, টিভি, বিভিন্ন পত্রিকা এবং বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনার মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন। আমাদের ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারে। আশার কথা বাংলাদেশ সরকার পুরনো ৮টি মেডিক্যাল কলেজের সাথে নতুন করে আরো ৬টি মেডিক্যাল কলেজে এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ খোলার মাধ্যমে হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

Bissho Thyroid Dibos ki? Amader koroniyo ki?

বর্তমানে সরকারী পর্যায়ে প্রায় ১০০ হরমোন বিশেষজ্ঞ কাজ করে যাচ্ছেন। এই বিপুল বিশেষজ্ঞদেরকে পদায়নের মাধ্যমে এনসিডি এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজে লাগানো সম্ভব। এনসিডির মাধ্যমে থাইরয়েড হরমোনের রোগের ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন আমরা সবাই থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে জানি এবং এর প্রতিকার ও প্রতিরোধে এগিয়ে আসি।

ভালো লাগলে কিন্তু ফেসবুক পেজ এ লাইক দিতে ভুলে জাবেন না।
আরো সাস্থ্য সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন.